ব্লগস্পট দিয়ে সাইট তৈরি করে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করুন !

ব্লগস্পট দিয়ে সাইট তৈরি করে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করুন !

কটি ব্লগ থাকা নিশ্চয় খুবই সৌভাগ্যের বিষয় কারন আপনি যেকোন মূহুর্তে নিজের বক্তব্য সকলের কাছে তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি একটু চতুর প্রকৃতির হয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজেই আপনি একটা ভালো এমাউন্ট বা অর্থ উপার্জন করে ফেলতে পারেন।

নতুন ব্লগে এর আগে আমি আরো একটি ব্লগিং ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলেছি যেটি হলো ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করা। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো নিজের ব্লগ  ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে নিজের হোস্টিং এবং ডোমেইন ব্যবহার করে তৈরি করতে।

অনেক নতুন ব্লগার তাদের ব্লগ ফ্রি তে হোস্ট করতে চান। কেননা তাদের মূলধন বা অর্থ না থাকায়। কিন্তু নিজের সাইট চালাতে বছরে এত বেশি মূল্যও দিতে হয় না।

যাই হোক এমন অনেক ব্লগিং প্লাটফর্ম রয়েছে যা আপনাকে ফ্রিতে ব্লগ বানানোর সুযোগ দেয়। আপনি যদি সিম্পল ব্লগ বানানোর কথা চিন্তা করেন তাহলে আমি বলবো ওয়ার্ডপ্রেস.কম বা ব্লগস্পট.কম প্লাটফর্ম বাছাই করে নেওয়ার জন্য।

ব্লগ কি ?


আমরা কম বেশি সবাই ব্লগ বা ওয়েব ব্লগ শব্দটির সাথে পরিচিত। যারা ভাবছেন “ব্লগ” এটা আবার কি? তাদের জন্য ব্লগ হচ্ছে বিশেষ ধরনের ওয়েব সাইট্, অনেকে একে ব্যক্তিগত ডায়রীও বলে থাকে। তবে সময়ের সাথে ব্লগিং এর ধারাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন ব্যক্তিগত ডায়রীর পরিবর্তে ব্লগ একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ওয়েব সাইট থেকে ব্লগের মূল পার্থক্য হল ওয়েব সাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিত ভাবে অপরদিকে ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিত ভাবে। এমনকি কিছু কিছু ব্লগ প্রতি মিনিটে আপডেট করা হয়।

বাংলা ভাষায় ব্লগ


২০০৬ সালের প্রথম মাস থেকে শুর হয় বাংলা ব্লগিং এর ইতিহাস। প্রথমে একটি বাংলা ব্লগিংসাইট তার যাত্র শুরু করার পরপরই আরও একাধিক সাইট অনলাইনে বাংলা ব্লগিং এর সুবিধা নিয়ে উপস্থিত হয়। এখন বেশ কয়েকটি ব্লগিং সাইট বাংলাভাষী অনলাইন ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর পার হবার পরও এদের কেউ কেউ তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি, কেউ জনপ্রিয় হবার চেষ্টা করছে, আবার কেউবা নতুন শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জনের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রণ করছে। স¤প্রতি বেশ কিছু সামাজিক ব্লগ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নিচে কয়েকটি প্রসিদ্ধ সামাজিক ব্লগ সাইটের ঠিকানা দেয়া হল

কি বিষয়ের উপর আপনার ব্লগ তৈরি করবেন ?


আপনি যে কোন বিষয়ের উপর আপনার ব্লগ খুলতে পারেন। এটার জন্য কোন বাধা নিসেদ নাই। সব চাইতে বেশি জনপ্রিয়য় যে বিষয় গুলা আছে জেগুলার উপর আপনি ব্লগিং করতে পারবেন তা হল…

ব্লগের প্রকারভেদ


কোন ব্লগে কি ধরনের টিউন দেওয়া হয় তার উপর ভিত্তি করে ব্লগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হল:

  • ১. ব্যক্তিগত ব্লগ : এখানে ব্যক্তি কোন একটি বিষয়ের উপর তার মতামত টিউন আকারে তুলে ধরেন এবং পাঠকদের সাথে এর উপর মতামত আদান প্রদান করেন। এই ধরনের ব্লগে সাধারনত কোন ব্যক্তি তার প্রতিদিনের জীবন যাত্রা এবং তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে। ব্যক্তিগত ব্লগ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ধরণের ব্লগ ব্লগার তার নিজের শখ থেকে করে থাকে। তাদের ব্লগ কেউ পড়ুক বা না পড়–ক এতে তাদের কোন আসে যায় না। নিজের আনন্দ লাভ করা এ ধরণের ব্লগের মূল উদ্দেশ্য।
  • ২. সামাজিক ব্লগ : সামাজিক ব্লগ হল এমন ব্লগ সাইট যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতামত বা মুক্ত চিন্তা তুলে ধরতে পারে। একজন ব্যক্তি একটি টিউন দেবার পর উক্ত ব্লগের অন্যান্য ব্লগাররা তার টিউনর উপর টিউমেন্ট করতে পারে। যেমন- সামহয়্যারইন ব্লগ, আমার ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক ব্লগের অন্তর্ভূক্ত।
  • ৩. ব্যবসায়িক ব্লগঃ কোম্পানী/ প্রতিষ্ঠান তাদের কোন পন্য বা সেবার উপর নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেন এবং পাঠক তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন। এ ধরনের ব্লগ সাধারণত কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পন্যের প্রচার বা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে করে থাকে। যেমন- গুগল ব্লগ, অপেরা ডেস্কটপ টিম ইত্যাদি।
  • ৪. প্রশ্ন ব্লগ : প্রশ্ন ব্লগে ব্লগার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এই প্রশ্ন কোন ফর্ম বা ই-মেইলের মাধম্যে ব্লগাদের কাছে পৌছান হয়। যেমন: ইয়াহু এনসার হল প্রশ্ন ব্লগ।
  • ৫. খবর ব্লগ : যে সকল ব্লগে বিভিন্ন সা¤প্রতিক খবরের উপর বিশ্লেষন স্থান পায় তাদেরকে খবর ব্লগ বা News Blog বলে।

আরো কয়েক ধরনের ব্লগ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যেমন মাইক্রো ব্লগ, টুইটার এমন একটি ব্লগ। এটি ব্যক্তিগত ব্লগের ভেতরেও পরে। এখানে কোন ব্লগার এখন কি করছেন বা ভাবছেন তা অতি সংক্ষিপ্ত আকারে লিখে থাকেন। যেমন: আমার টুইটার ব্লগ।ব্লগকে আরো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু আমরা সেদিকে যাবো না।

ব্লগিং শুরু করার আগে যা যা জানা উচিৎ

নতুন ব্লগ শুরু করার আগে অবশ্যই পরিকল্পনার প্রয়োজন। এটা ব্লগের নাম ঠিকানা নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু করতে হবে। ব্লগিং শুরু করার আগে, ডোমেইনের নাম নির্বাচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাঠককে আকৃষ্ট করার জন্য ওয়েব সাইটের url একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আপনার ডোমেইনের নামই হবে, আপনার ওয়েবসাইটের ইউআরএল।


তাই, ওয়েব সাইটের url এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যাতে এটা সহজে মনে রাখা যায়।ব্লগের নাম থেকে সবাই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা করে থাকে, তাই ব্লগের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত নাম নির্বাচন করতে হবে। ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বিষয়বস্তু নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্লগের বিষয়বস্তু নির্বাচন সাধারণত দুইভাবে করতে দেখা যায়।

এক.
আপনি যদি কোন বিষয়ে পারদর্শী হন সে বিষয়ে আপনি ব্লগ তৈরী করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিষয়বস্তু স্বতন্ত্র বা অন্যদের থেকে আলাদা হলে ব্লগের জনপ্রিয়তার জন্য ভালো।

দুই.
যে কোনো জনপ্রিয় বিষয়কে নির্বাচন করা। এক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর নির্বাচনের জন্য গুগলের সহায়তা নিতে পারেন। Google সার্চ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত সহযোগিতা পাবেন। কিন্তু এতে প্রচুর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে, তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একাধিক বিষয়বস্তু নির্বাচন না করে, যে কোন একটি বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জনপ্রিয় ব্লগের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই এগুলো যে কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ব্লগের উপাদান অবশ্যই তথ্যবহুল হতে হবে যাতে পাঠক ব্লগ থেকে উপকৃত হয়।

ব্লগ তৈরি করার জন্য ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন:

ব্লগে এডসেন্স এপ্রুভ পাওয়ার জন্য যা লাগবে।

আমরা সকলেই জানি অনলাইনে আয় করার সকল উপায়ের মধ্যে সেরা ও জনপ্রিয় টি হলো ব্লগ থেকে ইনকাম।

আমরা অনেকেই এখন ব্লগ থেকে আয় করতে চাই। কারণ বর্তমানে ব্লগ থেকে আয় করা তুলনামূলকভাবে অন্য উপায় গুলো থেকে বেশি সহজ ও সফলতার শীর্ষে পৌছানো সম্ভব।

আর এই উপায়টি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও সহজ হয়েছে একটি কারণে আর সেটি হলো গুগল এডসেন্স। আমরা সকলেই জানি গুগল এডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স হলো গুগলের একটি সেবা যার মাধ্যমে যে কেই ইচ্ছে করলে বিজ্ঞাপন নিতে পারে যা তাদের ওয়েবসাইটে বা ইউটিউব ভিডিওতে অথবা এপ এ প্রদর্শন করার মাধমে আয় করতে পারেন।

গুগল এডসেন্স ছাড়ার ও অনেক বিজ্ঞাপন দ্বাতা ওয়েবসাইট রয়েছে তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সেরা ও জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য হলো গুগল এডেসেন্স।

ব্লগিং এত সুবিধা দেখে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যে ব্লগিংকে পেশা হিসেবে নিতে চায় । আর তার জন্য অনেকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি ও করে ফেলে এবং সেখানে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ ও করতে থাকে।

কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এত কষ্ট করে ও তাদের সাইটে গুগল এডসেন্স এপরুপ করাতে পারে না। গুগল এডসেন্স এপরুপ না করার ও অবশ্য গুগলের কাছে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। যারা প্রথমবারে গুগল এডসেন্স এপরুপ করাতে না পারে তাদের কাছে অবশ্য দ্বিতীয়বার এপ্লাই করার সুযোগ থাকে কিন্তু এর মধ্যে অনেকেই থাকে যাদের মনোবল অনেক কমে যায় । যার জন্য তারা আর আগাতে চায় না । এবং এভাবেই শেষ হয়ে যায় অনেকের অনলােইনে ইনকাম অথবা ব্লগ থেকে আয় করার স্বপ্ন।

গুগল এডসেন্স এপরুপ করানোর জন্য যা থাকতে হবে আপনার ব্লগে

  • সবার প্রথমে আপনার সাইটে কমপক্ষে ১০টি ব্লগ পোষ্ট থাকতে হবে তা অবশ্যই অর্থপূর্ণ হতে হবে।
  • পোষ্টগুলোর সাইজ কমপক্ষে ৫০০ ওয়ার্ডের বেশি হতে হবে তবে ১০০০ এর বেশি করতে পারলে আরো ভালো।
  • আপনার সাইটের ডোমেন এর বয়স এক মাসের বেশি হতে হবে।
  • কমপক্ষে ৫টি পেজ থাকতে হবে। (তা হলো: About Us,Contact Us,Privacy Policy,Terms & Conditions) এই পেজগুলো ছাড়া আপনার ব্লগে এডসেন্স এপরুপ না করার সম্ভাবনা বেশি।

গুগল এডসেন্স এপরুপ পাওয়ার আগে যা ভুলেও করবেন না

  • কখনোই কারো লেখা আর্টিকেল কপি করবেন না।
  • কখনেই অন্যের ইমেজ কপি করবেন না। তবে হ্যা ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর ইমেজ ফ্রিতে পাওয়া যায় সেগুলো ফ্রিতে ডাউনলোড করে আপনি আপনার সাইটে ব্যহার করতে পারেন।
  • উল্টা পাল্টা অশলীন কন্টেন্ট আপনার ব্লগে পাবলিশ করবেন না।
  • কারো পার্সনাল বিষয় ব্লগে পাবলিশ করবেন না।

4 thoughts on “ব্লগস্পট দিয়ে সাইট তৈরি করে গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করুন !

    1. সংক্ষেপে, আপনার সাইটে গুগল অ্যাডসেন্স দ্বারা সরবরাহিত একটি জাভাস্ক্রিপ্ট যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে গুগল প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপনগুলো প্রদর্শন করবে। লোকেরা আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ক্লিক করলে গুগল আপনাকে অর্থ দেবে । কেউ যখন প্রশ্ন করে, “আমি কিভাবে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করতে পারি”, একটি সাধারণ উত্তর হল “গুগল অ্যাডসেন্স”। গুগল অ্যাডসেন্স সার্চ ইঞ্জিন গুগল এর মালিকানাধীন একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক।

      গুগল অ্যাডসেন্স থেকে অর্থ উপার্জন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর নির্ভর করে: সিপিসি, সিটিআর এবং আরপিএম। সিপিসি হচ্ছে প্রতি ক্লিকের জন্যে বিজ্ঞাপনদাতা কত খরচ দিবে। মোট ক্লিক কে মোট পেইজ ভিউ দ্বারা ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুনকরলে যা পাওয়া যায়,তার পরিমানই পেইজ সিটিআর। মোট ইস্টিমেটেড আর্নিংকে মোট পেইজ ভিউ দিয়ে ভাগ করে ১০০০ দিয়ে গুন দিলে আরপিএম পাওয়া যায়।

    1. অনলাইনে উপার্জন করাটা যার যার নিজের উপর নির্ভর করে।অনলাইনে অনেক ভাবে আয় করা যায়। যেমন

      Digital marketing, Seo, Affiliate, Graphics design, Web design etc. আপনি কোনটা নিবেন, সেটা আপনারা উপর নির্ভর করে। মানুষের যেটা ভাল লাগে সেটাই নেয়া উচিৎ । Google, Facebook, YouTube সার্চ করলে আনেক ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। যেটা আপনার কাছে ভাল লাগে সেটা নিয়ে কাজ শিক্ষে, তারপর মার্কেট প্লেসে কাজ করা উচিৎ।

Leave a Reply